
শরতের কাশফুল আর ঢাকের কাঠির আওয়াজে মুখরিত বাগেরহাটের সুন্দরবন এবং বলেশ্বর নদী সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপনে এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে গোটা উপজেলা। এ বছর শরণখোলার ৪টি ইউনিয়নে সর্বমোট ২১টি পূজা মণ্ডপে একযোগে দেবীবন্দনা ও শারদীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরি, নান্দনিক আলোকসজ্জা এবং চোখধাঁধানো প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষের মাঝে বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি।
শরণখোলা উপজেলার মণ্ডপগুলোর সিংহভাগই এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩নং রায়েন্দা ইউনিয়নে। প্রতিটি মণ্ডপেই ভক্তদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও কমিটি কাজ করছে।
উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ সবচেয়ে বেশি। এখানকার ১০টি মণ্ডপের মধ্যে অন্যতম হলো— রায়েন্দা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দির, রায়েন্দা বাজার পূর্বমাথা শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, উঃ রাজাপুর আমতলী সার্বজনীন শ্রীশ্রী হরি গুরু গোপাল চাঁদ মন্দির, শ্রী শ্রী মদন মোহন গোপাল মন্দির, এবং রাজেশ্বর শ্রী শ্রী হরি মন্দির।
১নং ধানসাগর ইউনিয়নের ৭টি মণ্ডপে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— আমড়াগাছিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দির, পূর্ব আমড়াগাছিয়া (শিববাড়ী) সার্বজনীন মন্দির, ধানসাগর শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দির সেবাশ্রম সংঘ এবং রাজাপুর ও রতিয়া রাজাপুর সার্বজনীন মন্দির।
প্রত্যন্ত উপকূলীয় এবং সুন্দরবনের কোল ঘেষা ৪নং সাউথখালী ইউনিয়নে মোট ৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন চলছে। মণ্ডপগুলো হলো— দক্ষিণ তাফালবাড়ী সার্বজনীন গোবিন্দ মন্দির, দক্ষিণ তাফালবাড়ী পশ্চিম পাড়া সার্বজনীন গোবিন্দ মন্দির এবং পশ্চিম চালিতাবুনিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরি মন্দির।
২নং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরে স্থানীয় ভক্তদের অংশগ্রহণে এক বিশেষ উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
পূজা উদযাপন ও সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ জানান, “প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায এবছর অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপনের হতে চলেছে। সম্প্রীতির এই উৎসবে সবার দুয়ার উন্মুক্ত।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হতে পারে।

News Desk।। অভিজিৎ দেউড়ি 





















