চট্টগ্রাম ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo সন্ধিপূজা ও কুমারী আরাধনায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী Logo নরসিংদীতে বাবার ত্যাগের গল্পে পূজা মণ্ডপসজ্জা Logo কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। Logo রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব Logo লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘের ২৯তম বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান Logo ১২৮ বছরের ঐতিহ্যে মুলাটোল সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গোৎসব Logo আগামী ২০শে অক্টোবর রংপুর মহানগরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান Logo দীঘিনালার রশিকনগর হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন Logo রাউজানে মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গোৎসব

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজায় সুনির্দিষ্ট ছুটির দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে ‘ছাত্র মহাজোট’-এর স্মারকলিপি


বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র সাহা-এর স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপির মাধ্যমে দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত ও সমন্বিত ছুটির সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে-এর নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ছাত্র মহাজোটের সভাপতি শাওন অধিকারী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার, দপ্তর সম্পাদক তাপস শিকারি এবং নার্সিং শাখার সভাপতি কল্যাণ বিশ্বাস সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর (মহাষষ্ঠী) থেকে ২১ অক্টোবর (বিজয়া দশমী) পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দূর-দূরান্তের যাতায়াত এবং ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণের সুবিধার্থে ৮ থেকে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি প্রদান করে থাকে।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সিংহভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি নীতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির কাঠামোকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৪ দিনের নামমাত্র ছুটি মঞ্জুর করছে। বিশেষ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল পূজার শুরুর দিন এবং শেষের দিন (যেমন ২০ ও ২১ অক্টোবর কেন্দ্রিক) মাত্র ১-২ দিন ছুটি দিচ্ছে, যা সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক ও অনভিপ্রেত।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এই স্বল্পমেয়াদী ও অসম ছুটির সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা নানাবিধ গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন:
১. প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য: একই দেশের নাগরিক ও শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পূর্ণাঙ্গ ছুটি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
২. ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বাধা: মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহা নবমী ও বিজয়া দশমীর দিনে ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের বাধ্যবাধকতা থাকায় শিক্ষার্থীরা পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
৩. যাতায়াতের ভোগান্তি: দূর-দূরান্তের জেলা (যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর ইত্যাদি) থেকে এসে প্রধান শহরগুলোতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা মাত্র ১-২ দিনের ছুটির মধ্যে তীব্র যানজট পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারছেন না।
৪. মানসিক ও একাডেমিক চাপ: পূজার দিনগুলোতে পরীক্ষা বা ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক উৎকণ্ঠার শিকার হচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের পরীক্ষার ফলাফলেও।

ছাত্র মহাজোটের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো হলো:
১. অভিন্ন ও সমন্বিত ছুটির বিজ্ঞপ্তি জারি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী (১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর) অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ৫ থেকে ৭ দিনের সমন্বিত ছুটি ঘোষণা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে অবিলম্বে বাধ্যবাধকতামূলক সুনির্দিষ্ট সার্কুলার/বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
২. একাডেমিক মূল্যায়ন স্থগিতকরণ: পূজার পুরো দিনগুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেকোনো প্রকার পরীক্ষা, কুইজ, উপস্থাপনা (Presentation) এবং অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সাংবিধানিক অধিকার ও পারিবারিক মেলবন্ধনের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণে জরুরি নির্দেশনার আকুল আবেদন জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ


 

Tags
প্রতিবেদকের সম্পর্কে তথ্য

ডেস্ক রির্পোট ।। World Hindu Times

ধর্ম | সংস্কৃতি | মানবাধিকার | সংবাদ
জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্গাপূজায় সুনির্দিষ্ট ছুটির দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীকে ‘ছাত্র মহাজোট’-এর স্মারকলিপি

আপডেটের সময় : ০৪:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র সাহা-এর স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপির মাধ্যমে দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত ও সমন্বিত ছুটির সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে-এর নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ছাত্র মহাজোটের সভাপতি শাওন অধিকারী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লিখন সরকার, দপ্তর সম্পাদক তাপস শিকারি এবং নার্সিং শাখার সভাপতি কল্যাণ বিশ্বাস সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর (মহাষষ্ঠী) থেকে ২১ অক্টোবর (বিজয়া দশমী) পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দূর-দূরান্তের যাতায়াত এবং ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণের সুবিধার্থে ৮ থেকে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি প্রদান করে থাকে।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সিংহভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারি নীতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির কাঠামোকে তোয়াক্কা না করে নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে মাত্র ২ থেকে ৪ দিনের নামমাত্র ছুটি মঞ্জুর করছে। বিশেষ করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল পূজার শুরুর দিন এবং শেষের দিন (যেমন ২০ ও ২১ অক্টোবর কেন্দ্রিক) মাত্র ১-২ দিন ছুটি দিচ্ছে, যা সনাতনী শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক ও অনভিপ্রেত।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এই স্বল্পমেয়াদী ও অসম ছুটির সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা নানাবিধ গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন:
১. প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য: একই দেশের নাগরিক ও শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে প্রধান ধর্মীয় উৎসবে পূর্ণাঙ্গ ছুটি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
২. ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বাধা: মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহা নবমী ও বিজয়া দশমীর দিনে ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্টের বাধ্যবাধকতা থাকায় শিক্ষার্থীরা পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
৩. যাতায়াতের ভোগান্তি: দূর-দূরান্তের জেলা (যেমন চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রংপুর ইত্যাদি) থেকে এসে প্রধান শহরগুলোতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা মাত্র ১-২ দিনের ছুটির মধ্যে তীব্র যানজট পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে পারছেন না।
৪. মানসিক ও একাডেমিক চাপ: পূজার দিনগুলোতে পরীক্ষা বা ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক উৎকণ্ঠার শিকার হচ্ছেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের পরীক্ষার ফলাফলেও।

ছাত্র মহাজোটের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো হলো:
১. অভিন্ন ও সমন্বিত ছুটির বিজ্ঞপ্তি জারি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে মহাসপ্তমী থেকে বিজয়া দশমী (১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর) অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ৫ থেকে ৭ দিনের সমন্বিত ছুটি ঘোষণা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে অবিলম্বে বাধ্যবাধকতামূলক সুনির্দিষ্ট সার্কুলার/বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
২. একাডেমিক মূল্যায়ন স্থগিতকরণ: পূজার পুরো দিনগুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেকোনো প্রকার পরীক্ষা, কুইজ, উপস্থাপনা (Presentation) এবং অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতি, সাংবিধানিক অধিকার ও পারিবারিক মেলবন্ধনের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অবিলম্বে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটি পুনর্নির্ধারণে জরুরি নির্দেশনার আকুল আবেদন জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ