চট্টগ্রাম ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo সন্ধিপূজা ও কুমারী আরাধনায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী Logo নরসিংদীতে বাবার ত্যাগের গল্পে পূজা মণ্ডপসজ্জা Logo কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। Logo রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব Logo লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘের ২৯তম বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান Logo ১২৮ বছরের ঐতিহ্যে মুলাটোল সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গোৎসব Logo আগামী ২০শে অক্টোবর রংপুর মহানগরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান Logo দীঘিনালার রশিকনগর হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন Logo রাউজানে মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গোৎসব

গণেশোৎসব উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ

গণেশোৎসব উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। দেশজুড়ে পরিবার ও বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায় যখন ২০২৬ সালের গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি এ উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
১০ দিনব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় অ্যান্থনি অ্যালবানিজ হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজ ও দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক জীবনে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করা গণেশোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন সূচনা, জ্ঞান ও বাধা দূর করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক-সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর ও আঞ্চলিক এলাকাতেও প্রতিবছর ব্যাপকভাবে এ উৎসব পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ১০ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা আচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
তিনি বলেন, “এই ১০ দিনের ভক্তিমূলক আয়োজনে আমি জানি, অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালন করে আসা প্রিয় আচার ও ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করবে।”
গণেশোৎসবের প্রতীকী তাৎপর্যের কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভগবান গণেশকে নতুন শুরুর দেবতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা, নবায়ন, জন্ম ও পুনর্জাগরণের সঙ্গে যুক্ত এই সময়ের সঙ্গে গণেশের নতুন সূচনার প্রতীকের গভীর মিল রয়েছে।
অ্যান্থনি অ্যালবানিজের এই শুভেচ্ছাবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায় গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মন্দির, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং পরিবারগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি পালন করবে।
অনেকের কাছে গণেশোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বৃহত্তর সমাজের মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ারও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য ও সামাজিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গত কয়েক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানও বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন বড় শহর থেকে শুরু করে আঞ্চলিক এলাকাতেও হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলো নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় অস্ট্রেলিয়ার এই বৈচিত্র্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন অ্যালবানিজ। তিনি দেশটির সমাজে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদান এবং তাদের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় হিন্দু সম্প্রদায় যখন একত্র হয়ে প্রার্থনা ও আনন্দে অংশ নিচ্ছে, তখন আমি আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের জাতিতে যে অবদান রেখেছেন, তা স্বীকার করছি।”
গণেশোৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির পাশাপাশি এই উৎসব পরিবার, বন্ধু এবং সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
শুভেচ্ছাবার্তার শেষে গণেশোৎসবে অংশ নেওয়া সবার জন্য শুভকামনা জানান অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি বলেন, “গণেশোৎসবে আপনারা যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব উদযাপন করছেন, তা আপনাদের হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে তুলুক।”
২০২৬ সালের গণেশোৎসব অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় আচার, পারিবারিক মিলন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও প্রতিফলিত হচ্ছে।

Tags
প্রতিবেদকের সম্পর্কে তথ্য

ডেস্ক রির্পোট ।। World Hindu Times

ধর্ম | সংস্কৃতি | মানবাধিকার | সংবাদ
জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

গণেশোৎসব উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ

আপডেটের সময় : ০৮:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণেশোৎসব উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। দেশজুড়ে পরিবার ও বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায় যখন ২০২৬ সালের গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি এ উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
১০ দিনব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় অ্যান্থনি অ্যালবানিজ হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজ ও দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক জীবনে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করা গণেশোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন সূচনা, জ্ঞান ও বাধা দূর করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক-সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর ও আঞ্চলিক এলাকাতেও প্রতিবছর ব্যাপকভাবে এ উৎসব পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ১০ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা আচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
তিনি বলেন, “এই ১০ দিনের ভক্তিমূলক আয়োজনে আমি জানি, অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালন করে আসা প্রিয় আচার ও ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করবে।”
গণেশোৎসবের প্রতীকী তাৎপর্যের কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভগবান গণেশকে নতুন শুরুর দেবতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা, নবায়ন, জন্ম ও পুনর্জাগরণের সঙ্গে যুক্ত এই সময়ের সঙ্গে গণেশের নতুন সূচনার প্রতীকের গভীর মিল রয়েছে।
অ্যান্থনি অ্যালবানিজের এই শুভেচ্ছাবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায় গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মন্দির, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং পরিবারগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি পালন করবে।
অনেকের কাছে গণেশোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বৃহত্তর সমাজের মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ারও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য ও সামাজিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
গত কয়েক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানও বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন বড় শহর থেকে শুরু করে আঞ্চলিক এলাকাতেও হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলো নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় অস্ট্রেলিয়ার এই বৈচিত্র্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন অ্যালবানিজ। তিনি দেশটির সমাজে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদান এবং তাদের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় হিন্দু সম্প্রদায় যখন একত্র হয়ে প্রার্থনা ও আনন্দে অংশ নিচ্ছে, তখন আমি আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের জাতিতে যে অবদান রেখেছেন, তা স্বীকার করছি।”
গণেশোৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির পাশাপাশি এই উৎসব পরিবার, বন্ধু এবং সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।
শুভেচ্ছাবার্তার শেষে গণেশোৎসবে অংশ নেওয়া সবার জন্য শুভকামনা জানান অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি বলেন, “গণেশোৎসবে আপনারা যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব উদযাপন করছেন, তা আপনাদের হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে তুলুক।”
২০২৬ সালের গণেশোৎসব অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় আচার, পারিবারিক মিলন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও প্রতিফলিত হচ্ছে।