চট্টগ্রাম ০৬:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo সন্ধিপূজা ও কুমারী আরাধনায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী Logo নরসিংদীতে বাবার ত্যাগের গল্পে পূজা মণ্ডপসজ্জা Logo কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। Logo রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব Logo লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘের ২৯তম বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান Logo ১২৮ বছরের ঐতিহ্যে মুলাটোল সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গোৎসব Logo আগামী ২০শে অক্টোবর রংপুর মহানগরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান Logo দীঘিনালার রশিকনগর হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন Logo রাউজানে মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গোৎসব

নবীনগর মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিতাস-বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানঘাটে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশান এলাকায় কিছু যুবকের আনাগোনা থাকে এবং সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে। শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাঁদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাঁদের শ্মশানে পূজা না দিয়ে চলে যেতে বলা হয় এবং না গেলে পরিণতি খারাপ হবে বলে ভয় দেখানো হয়। পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তাঁরা শ্মশান থেকে চলে যান।

ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানানো হলে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয়ে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম জানান, বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা বলেন, শ্মশানে নিয়মিত মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


 

Tags
প্রতিবেদকের সম্পর্কে তথ্য

ডেস্ক রির্পোট ।। World Hindu Times

ধর্ম | সংস্কৃতি | মানবাধিকার | সংবাদ
জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম দুর্গাপূজা: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নবীনগর মহাশ্মশানে পূজায় বাধা ও ভয়ভীতির অভিযোগ

আপডেটের সময় : ০৮:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিতাস-বুড়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানঘাটে পূজায় বাধা, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্মশান এলাকায় কিছু যুবকের আনাগোনা থাকে এবং সেখানে মাদক সেবনের ঘটনাও ঘটে। শ্মশানে পূজা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদ করলে গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস আগে শ্মশানের ভেতর থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ গজ বৈদ্যুতিক তার ও প্রায় ১২টি বাল্ব নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া শ্মশানে স্থাপিত মহাদেবের দুটি ত্রিশূলের একটি নিয়ে যাওয়া এবং অপরটি বাঁকিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শ্মশানে পূজা দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন পূজারি হরেন্দ্র বর্মন ও ধীরেন্দ্র বর্মন। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকজন যুবক তাঁদের কাছে গাঁজা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের গালাগালি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তাঁদের শ্মশানে পূজা না দিয়ে চলে যেতে বলা হয় এবং না গেলে পরিণতি খারাপ হবে বলে ভয় দেখানো হয়। পরে ভয়ে পূজার সামগ্রী রেখে তাঁরা শ্মশান থেকে চলে যান।

ঘটনাটি শ্মশান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জানানো হলে পূজা বন্ধ না করে পুনরায় শ্মশানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর পূজা দিতে গেলে শ্মশানের গেটে অভিযুক্ত যুবকদের দেখতে পেয়ে ভয়ে ফিরে আসেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুকে পোস্ট করলে নবীনগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘গুজব’ উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম জানান, বিষয়টি দেখে তিনি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে পূজা বন্ধ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিষয় নিয়ে যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবীনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান কমিটির সভাপতি সুবীর রঞ্জন সাহা বলেন, শ্মশানে নিয়মিত মাদক সেবনের ঘটনা ঘটে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।