
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শুভ মহালয়া ও দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোংলাজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।
জেলার মোংলা উপজেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। দুর্গোৎসবকে ঘিরে উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৩৫টি পূজা মণ্ডপে এখন দেবী দুর্গার অবয়ব গড়ার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগররা।
আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমন ঘটবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ দুর্গোৎসব।
উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসায় উপজেলার মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা গড়ার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বৈরী আবহাওয়া, রোদ-বৃষ্টির উপেক্ষা করেই প্রায় এক মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। ইতোমধ্যে বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব গড়ার প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
মোংলা পৌর এলাকা ও ৬টি ইউনিয়নের ৩৫টি মণ্ডপে চলছে এ প্রস্তুতি। এরমধ্যে পৌর এলাকায় ৪টি, ১ নম্বর চাঁদপাই ইউনিয়নে ৪টি, ২ নম্বর বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে ১০টি, ৩ নম্বর সোনাইলতলা ইউনিয়নে ৪টি, ৪ নম্বর মিঠাখালী ইউনিয়নে ৫টি, ৫ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নে ২টি এবং ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নে ৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও কারিগরদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা শিল্পীরা দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভাস্কররা জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন প্রতিমা তৈরিতে লাভ কমে গেছে।
একজন প্রতিমা শিল্পী বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটি কিনে একটি ৪০ হাজার টাকার প্রতিমা তৈরিতেই খরচ হয়ে যায় ৩০ হাজার টাকার বেশি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন রোদের আলোয় দ্রুত প্রতিমা শুকিয়ে ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হবে রং-তুলির আঁচড়।
হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মোংলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোপাল কৃষ্ণ (কালু) জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবকে সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। আশা করছি, ভক্তদের অংশগ্রহণে এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব পালিত হবে।
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times