
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অরিত্র মৃধা (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ৭ইঅক্টোবর, বুধবার, দুপুর ১টার দিকে স্কুল থেকে সাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কৈশোরে পা দেওয়া এক মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত অরিত্র মৃধা উপজেলার ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের পল্লীমঙ্গল বাজারের বিশিষ্ট পল্লী চিকিৎসক খোকন মৃধার বড় ছেলে। সে ধানসাগর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বিদ্যালয়ে অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার পরিচিতি ছিল।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে অরিত্র নিজের বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। সে ধানসাগর-পল্লীমঙ্গল সড়কে যাত্রাকালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল তার সাইকেলটিকে সরাসরি সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় অরিত্র সাইকেল থেকে ছিটকে পিচঢালা সড়কের ওপর পড়ে মাথায় ও বুকে গুরুতর আঘাত পায়
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও স্কুলের সহপাঠীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে খুলনার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, খুলনায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ১৩ বছরের এই কিশোর
এদিকে একমাত্র সম্ভাবনাময় সন্তানকে হারিয়ে অরিত্রর বাবা-মায়ের আহাজারিতে হাসপাতাল ও ধানসাগরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার চেয়ে একজন পিতার জীবনে আর কোনো ভারী বোঝা হতে পারে না—পল্লী চিকিৎসক খোকন মৃধার আহাজারি দেখে উপস্থিত প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। চোখের পলকে একটি হাসিখুশি পরিবারের সব স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
অরিত্রর অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ধানসাগর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তার সহপাঠীরা জানায়, অরিত্রর চোখজুড়ে ছিল জীবনে বড় হওয়ার দারুণ স্বপ্ন। সে ভালোভাবে লেখাপড়া করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চেয়েছিল। কিন্তু একটি বেপরোয়া যান তার সেই স্বপ্নযাত্রা চিরতরে থামিয়ে দিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে জানান, অরিত্রর মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এলাকায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times