
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতনী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী, দুপুর ৩টায় পূজা শুরু হয়। বিকেল ৪টায় অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ দশমহাবিদ্যা প্রতিমা প্রদর্শনী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। প্রদর্শনীর মাধ্যমে সনাতন ধর্মের শাক্ত ঐতিহ্য ও দেবী উপাসনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণে আয়োজনটি অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক বিষ্ণুপদ ঘোষ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মন্দিরের গঠনতন্ত্রের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মন্দিরের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সাংগঠনিক কাঠামো আরও সুসংহত করতে এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা শামসুল আরিফিন ‘সবার আগে বাংলাদেশ ’—এই মানবিক আদর্শকে ধারণ করে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বাংলায় যারা বসবাস করেন, তাঁদের প্রত্যেকের উচিত একে অপরকে ধারণ করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ তৈরি হয়। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দশমহাবিদ্যা প্রতিমা প্রদর্শনী আয়োজনের বিষয়টিকেও তাঁরা সৃজনশীলতা ও ঐতিহ্যচর্চার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন। তাঁরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবীপক্ষের সূচনা ও শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তার প্রতীক। মহালয়াকে কেন্দ্র করে চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার আবাহন এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আবহ ছড়িয়ে পড়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আয়োজন ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরে।
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times