
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লিটন চন্দ্র বর্মণ নামে এক প্রধান শিক্ষককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত লিটন চন্দ্র বর্মণ পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। হামলার পর স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়াকান্দা এলাকায় সরকারি খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রোববার সকালে টিনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ সরকারি জমিতে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং বিষয়টির প্রতিবাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে টিনু মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে শিক্ষকের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে লিটন চন্দ্র বর্মণের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিনু মিয়া ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে এসে তিনি সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন বাসিন্দাকে হুমকি ও গালিগালাজ করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “সরকারি জমিতে দখল ঠেকাতে শিক্ষক প্রতিবাদ করায় কয়েক দিন ধরে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার তার ওপর হামলা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে টিনু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, সরকারি খাস জমি দখল ও সেখানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times