
বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)-এর কথিত শাখা বা সহযোগী সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদুর কাফিলা’ (IMK)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরালায় অভিযান চালিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোট ১৬টি স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে অসমে ১০টি, পশ্চিমবঙ্গে ৫টি এবং কেরালায় একটি স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের পালিশগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার একটি মসজিদ থেকে পিয়ার মহম্মদ শেখ নামে এক ইমামকে গ্রেফতার করেছে NIA। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ার মহম্মদ শেখের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার কুলুট গ্রামে এবং তিনি প্রায় তিন বছর ধরে পালিশগ্রামের ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার ভোরে মঙ্গলকোট থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে NIA-এর চার সদস্যের একটি দল মসজিদে যায়। সেখান থেকেই পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি যে কক্ষে থাকতেন সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি ডায়েরি ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই ডায়েরিতে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের ফোন নম্বর পেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, পিয়ার মহম্মদ শেখ নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন এবং গত তিন বছরের মধ্যে প্রায় ছয় মাস বাংলাদেশে কাটিয়েছেন। তবে তাঁর বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখছে NIA। এসব তথ্য বর্তমানে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারির কুসকারি মুন্দেহার এলাকায় মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও মঙ্গলবার সকালে NIA তল্লাশি চালায়। তাঁর বাড়িতে চার সদস্যের একটি NIA দল বংশীহারি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তল্লাশিতে কী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমানের ছেলে মুজিবুর রহমান (২৬) দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে রয়েছেন এবং তিনি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা তল্লাশিতে কী প্রমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে NIA-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ ও কুলপি এলাকাতেও NIA-এর অভিযান হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে পিয়ার মহম্মদ শেখের মতো এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, গ্রেফতার এবং জব্দ করা সামগ্রীর বিষয়ে সব তথ্য এখনো সরকারি সূত্রে প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এসব ক্ষেত্রে তদন্তাধীন তথ্যকে অভিযোগ বা সূত্রের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা প্রয়োজন।
এই অভিযান যে মামলার তদন্তের অংশ, সেই মামলায় এর আগে NIA ১১ জনের বিরুদ্ধে গুয়াহাটির বিশেষ NIA আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। ২৬ জুন ২০২৬-এর চার্জশিট-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে ‘ইমাম মাহমুদুর কাফিলা’কে JMB-এর একটি সহযোগী/রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। NIA-এর দাবি, সংগঠনটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানো, তরুণদের উগ্রপন্থায় যুক্ত করার চেষ্টা এবং সংগঠনের নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
NIA-এর তদন্ত অনুযায়ী, ওই মামলায় গোপন বৈঠক, ধর্মীয় উগ্রপন্থী কার্যক্রম, উগ্রপন্থী সাহিত্য প্রচার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ডিজিটাল তথ্যও সংগ্রহ করেছেন বলে NIA জানিয়েছে।
তবে মঙ্গলবারের নতুন অভিযানে যাদের বাড়ি বা স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ওই জঙ্গি নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার আগে NIA-এর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আদালতের নথি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
ছবিপিট
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times