
সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘের (সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধি দলটি হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হিসেবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক দায়িত্ব পালন করছেন।
এ সময় প্রতিনিধি দলটি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে; এর ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি হচ্ছে।
১. ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় সংসদে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
২. ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
৩. শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজায় আরও সরকারি ছুটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে এক দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
৪. বেদখল হওয়া মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের অংশগ্রহণে দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন এবং উদ্ধারকৃত দেববিগ্রহ যথাযথভাবে নিজ নিজ এলাকার মন্দিরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়।
৫. অর্পিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বা বৈধ ওয়ারিশদের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও ধর্মীয় রীতিনীতি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পারিবারিক আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে হিন্দু শাস্ত্রীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানানো হয়।
৬.সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় টোলমুক্ত ধর্মীয় বা বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হিন্দু সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ আধুনিক ধর্মীয় উপাসনালয় ও মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
৭. সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মন্দির ও শ্মশানের জায়গা বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব দাবি দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপন করা হচ্ছে। তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আরও আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
নিবার্হী সম্পাদক: অর্জুন মালাকার
২০২৬ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত World Hindu Times