
শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মা দুর্গার আগমনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজা মণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই উৎসব যেন নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পবিত্র পরিবেশে উদযাপিত হয়—এ দায়িত্ব আমাদের সবার।
পূজা শুরুর আগেই প্রতিটি মণ্ডপে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দায়িত্বশীল স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা জরুরি। প্রবেশ ও বহির্গমন, প্রতিমার নিরাপত্তা, প্রণামীবাক্স, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়মিত নজরদারি থাকতে হবে। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা দেখা গেলে নিজেরা আইন হাতে না নিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শুধু একটি মণ্ডপের ক্ষতি করে না; এর প্রভাব পুরো সনাতন সমাজের ওপর পড়তে পারে। তাই ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
একই সঙ্গে দুর্গাপূজার ধর্মীয় পবিত্রতা ও সাত্ত্বিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। মাদক, অশ্লীলতা, উচ্ছৃঙ্খলতা কিংবা কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড যেন পূজামণ্ডপের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ করে তরুণ সমাজকে শুধু দর্শনার্থী হিসেবে নয়, স্বেচ্ছাসেবী ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণকারী হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসহায় মানুষের সহযোগিতায় এবং মণ্ডপের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
আমরা চাই, দেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপ হোক নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সাত্ত্বিক। ভক্তি, সংযম, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হোক মা দুর্গার আরাধনা।
সতর্ক থাকুন। ঐক্যবদ্ধ থাকুন। দায়িত্বশীল হোন।
প্রতিটি মন্দির ও পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করি এবং সম্মিলিত উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ ও পবিত্র শারদীয় দুর্গাপূজা নিশ্চিত করি।
জয় মা দুর্গা। 🙏🚩🪔

দ্বীপ চন্দ্র ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট কেন্দ্রীয় কমিটি 





















