চট্টগ্রাম ০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo সন্ধিপূজা ও কুমারী আরাধনায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী Logo নরসিংদীতে বাবার ত্যাগের গল্পে পূজা মণ্ডপসজ্জা Logo কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। Logo রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব Logo লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘের ২৯তম বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান Logo ১২৮ বছরের ঐতিহ্যে মুলাটোল সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গোৎসব Logo আগামী ২০শে অক্টোবর রংপুর মহানগরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান Logo দীঘিনালার রশিকনগর হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন Logo রাউজানে মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গোৎসব Logo জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে শারদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন

হিন্দু সম্প্রদায়ের সাত দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মতবিনিময়

ছবি:প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মতবিনিময়


সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘের (সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধি দলটি হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হিসেবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলটি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে; এর ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি হচ্ছে।

প্রতিনিধি দলের সাত দফা দাবি

১. ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় সংসদে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

২. ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

৩. শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজায় আরও সরকারি ছুটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে এক দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

৪. বেদখল হওয়া মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের অংশগ্রহণে দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন এবং উদ্ধারকৃত দেববিগ্রহ যথাযথভাবে নিজ নিজ এলাকার মন্দিরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

৫. অর্পিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বা বৈধ ওয়ারিশদের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও ধর্মীয় রীতিনীতি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পারিবারিক আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে হিন্দু শাস্ত্রীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানানো হয়।

৬.সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় টোলমুক্ত ধর্মীয় বা বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হিন্দু সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ আধুনিক ধর্মীয় উপাসনালয় ও মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

৭. সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মন্দির ও শ্মশানের জায়গা বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব দাবি দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপন করা হচ্ছে। তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আরও আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।


 

Tags
প্রতিবেদকের সম্পর্কে তথ্য

বার্তা সম্পাদক

জনপ্রিয় খবর

সন্ধিপূজা ও কুমারী আরাধনায় উদ্‌যাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী

হিন্দু সম্প্রদায়ের সাত দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মতবিনিময়

আপডেটের সময় : ১২:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ হিন্দু সম্মিলন সংঘের (সাবেক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধি দলটি হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সাত দফা দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হিসেবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলটি আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে; এর ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটি হচ্ছে।

প্রতিনিধি দলের সাত দফা দাবি

১. ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় সংসদে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

২. ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

৩. শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজায় আরও সরকারি ছুটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে এক দিন সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

৪. বেদখল হওয়া মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দুদের অংশগ্রহণে দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন এবং উদ্ধারকৃত দেববিগ্রহ যথাযথভাবে নিজ নিজ এলাকার মন্দিরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

৫. অর্পিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক বা বৈধ ওয়ারিশদের কাছে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ও ধর্মীয় রীতিনীতি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো পারিবারিক আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আগে হিন্দু শাস্ত্রীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানানো হয়।

৬.সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় টোলমুক্ত ধর্মীয় বা বৈদিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হিন্দু সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ আধুনিক ধর্মীয় উপাসনালয় ও মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

৭. সরকারি ও বেসরকারি আবাসন প্রকল্পগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মন্দির ও শ্মশানের জায়গা বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব দাবি দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপন করা হচ্ছে। তারা দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আরও আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।