চট্টগ্রাম ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
Logo রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব Logo লালমনিরহাটে সনাতন সেবক সংঘের ২৯তম বৈদিক বিদ্যাপীঠের সমাপনী ও গীতাদান অনুষ্ঠান Logo ১২৮ বছরের ঐতিহ্যে মুলাটোল সার্বজনীন পূজা মন্দিরে দুর্গোৎসব Logo আগামী ২০শে অক্টোবর রংপুর মহানগরের পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে আসবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান Logo দীঘিনালার রশিকনগর হরি মন্দিরে ভক্তিপূর্ণ পরিবেশে সপ্তমী পূজা উদযাপন Logo রাউজানে মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দুর্গোৎসব Logo জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে শারদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন Logo কক্সবাজারে ১ টাকায় শারদীয় বস্ত্র বিতরণ, উদ্যোগে সাজু দাস Logo চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ সাংবাদিকের ছেলে প্রিতম Logo চট্টগ্রামের খলিফা পট্টি পূজামণ্ডপে আয়াত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, থিমে উঠে এল সমাজের নির্মম বাস্তবতা

দুর্গাপুরে অর্থসংকটে অনাথ আশ্রম, মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম

ছবি:সংগৃহীত


নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় এলাকায় অবস্থিত ‘নয়ন যোগী আশ্রম মানব কল্যাণকামী অনাথালয়’ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান হ্রাস পাওয়ায় আশ্রমে থাকা ১১২ জন অনাথ ও অসহায় শিশুর খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পোশাকসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৬ সালে চণ্ডীগড় গ্রামে নিত্যানন্দ গোস্বামী আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠাতা নিত্যানন্দ গোস্বামীর মৃত্যুর পর আশ্রমটির আর্থিক সংকট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে কমে যায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তাও।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছর দুয়েক আগেও আশ্রমের ১১২ জন শিশুর মধ্যে ৫৬ জনের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যেত। কিন্তু গত বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২২ জনে। চলতি বছরে বরাদ্দের আওতায় শিশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছালেও আশ্রমের মোট শিশুর তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল।

ফলে সরকারি সহায়তার বাইরে থাকা ৮০ শিশুর খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। অর্থসংকটের কারণে শিশুদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এবং পড়াশোনার উপকরণ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আশ্রমে থাকা কয়েকজন শিশু জানায়, প্রতিদিনই তাদের নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে। কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, আবার কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।

আশ্রম কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আশ্রমটির জন্য নিয়মিত ও টেকসই সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

Tags
প্রতিবেদকের সম্পর্কে তথ্য

বার্তা সম্পাদক

জনপ্রিয় খবর

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী করুণাময়ী কালীবাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসব

দুর্গাপুরে অর্থসংকটে অনাথ আশ্রম, মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম

আপডেটের সময় : ০৩:২৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডীগড় এলাকায় অবস্থিত ‘নয়ন যোগী আশ্রম মানব কল্যাণকামী অনাথালয়’ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান হ্রাস পাওয়ায় আশ্রমে থাকা ১১২ জন অনাথ ও অসহায় শিশুর খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পোশাকসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৬ সালে চণ্ডীগড় গ্রামে নিত্যানন্দ গোস্বামী আশ্রমটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠাতা নিত্যানন্দ গোস্বামীর মৃত্যুর পর আশ্রমটির আর্থিক সংকট ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে কমে যায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তাও।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছর দুয়েক আগেও আশ্রমের ১১২ জন শিশুর মধ্যে ৫৬ জনের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যেত। কিন্তু গত বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২২ জনে। চলতি বছরে বরাদ্দের আওতায় শিশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়ে ৩২ জনে পৌঁছালেও আশ্রমের মোট শিশুর তুলনায় তা এখনও অপ্রতুল।

ফলে সরকারি সহায়তার বাইরে থাকা ৮০ শিশুর খাবার, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করতে গিয়ে চরম সংকটে পড়েছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। অর্থসংকটের কারণে শিশুদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, প্রয়োজনীয় পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এবং পড়াশোনার উপকরণ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আশ্রমে থাকা কয়েকজন শিশু জানায়, প্রতিদিনই তাদের নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা পড়াশোনা করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে। কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, আবার কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অন্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।

আশ্রম কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।

শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আশ্রমটির জন্য নিয়মিত ও টেকসই সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।