
চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার মনপোদ্দার বাড়িতে শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬। শত বছরের ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহের আমেজ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, দেবীর চক্ষুদান, সন্ধ্যা আরতি, মাতৃবরণ, শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা, স্মারক পাণ্ডুলিপি উন্মোচন, অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, পুরস্কার বিতরণ, স্মৃতিচারণ, গুণীজন সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ ছাড়া থাকছে ‘মা চিন্ময়ী’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সনাতনী ব্যান্ড ‘ত্রিনাথ’-এর পরিবেশনা, ‘টিম আগমনী’র উদ্যোগে শ্রীশ্রী মহাচণ্ডীপাঠ, ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান, ঢাকের তালে ধুনুচি নৃত্য এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প। উৎসবকে আনন্দমুখর ও সুশৃঙ্খলভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টায় শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার চক্ষুদান এবং ঢাক-ঢোলের বাদ্যে সন্ধ্যা আরতি অনুষ্ঠিত হয়।
১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে সকালে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘মা চিন্ময়ী’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় আরতি ও মাতৃবরণ শেষে রাতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, পূজার শুভ উদ্বোধন ও প্রবীণ গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সনাতনী ব্যান্ড ‘ত্রিনাথ’-এর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ অক্টোবর মহাসপ্তমীতে ‘টিম আগমনী’র পরিবেশনায় শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, দেবীর ভোগ নিবেদন, সন্ধ্যা আরতি ও ধুনুচি নৃত্যের আয়োজন করা হয়।
১৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্য পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। সন্ধ্যায় আরতি ও ধুনুচি নৃত্যের পর রাত ১০টায় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পী ঐশী রক্ষিতের ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের কথা রয়েছে।
১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমীতে সন্ধ্যা ৬টায় দেবীর সন্ধ্যা আরতি ও ঢাকের তালে ধুনুচি নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে।
২০ অক্টোবর মহানবমীতে সকাল ১০টায় সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় আরতি ও ধুনুচি নৃত্যের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সকাল ৮টায় দেবীর পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, সকাল ১০টায় বিজয়া র্যালি এবং রাত ৮টায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
মনপোদ্দার বাড়ির শতবর্ষ পূর্তির এ আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। অসহায় মানুষের মধ্যে শাড়ি বিতরণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার মতো উদ্যোগ উৎসবের সামাজিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মনপোদ্দার বাড়ির শতবর্ষ পূর্তির এ দুর্গোৎসব সবার অংশগ্রহণে আনন্দঘন হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
পরিশেষে, মনপোদ্দার বাড়ির দুর্গোৎসব উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে জানানো হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

News Desk।। মিলন বৈদ্য 




















