
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মসজিদ থাকা দেশগুলোর তালিকায় বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষে। তবে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েক দশকে ভারতের অবস্থান আরও ওপরে উঠতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম জনসংখ্যার দিক থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে Pew Research Center। তবে মসজিদের সংখ্যার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক ২০৫০ সালের পূর্বাভাস এখনো পাওয়া যায়নি।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় মসজিদ ও মুসল্লার সংখ্যা কয়েক লাখ। ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের Sistem Informasi Masjid বা SIMAS-এর বর্তমান তথ্যভান্ডারে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৯টি মসজিদ এবং ৩ লাখ ৯২ হাজার ৬৪২টি মুসাল্লা নিবন্ধিত রয়েছে। অর্থাৎ দুই শ্রেণি মিলিয়ে ৭ লাখের বেশি ধর্মীয় উপাসনাস্থল নিবন্ধিত।
ইন্দোনেশিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও Dewan Masjid Indonesia-এর চেয়ারম্যান Jusuf Kalla ২০২৬ সালের মার্চে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ মসজিদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। ফলে ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসে সংখ্যার পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এর একটি কারণ হলো—কোথাও শুধু মসজিদ, আবার কোথাও মসজিদের সঙ্গে মুসাল্লা বা ছোট নামাজের স্থানও গণনা করা হচ্ছে।{কপি:WHT}
-
ভারতের অবস্থান
ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। দেশটিতে মসজিদের কোনো একক জাতীয় সরকারি রেজিস্ট্রি নেই। ফলে বিভিন্ন উৎসে ভারতের মসজিদের সংখ্যা নিয়ে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক তালিকাগুলোতে ভারতের মসজিদের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৪ লাখের মধ্যে বলা হয়েছে। অন্যদিকে কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্রে এর চেয়ে বেশি সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ভারতের ক্ষেত্রে ‘ঠিক কতটি মসজিদ রয়েছে’—এ প্রশ্নের একটি নির্ভুল, সরকারি জাতীয় সংখ্যা বর্তমানে বলা কঠিন।
-
২০৫০ সালে ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়াতে পারে
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ demographic পরিবর্তনটি রয়েছে।
Pew Research Center-এর ২০১৫ সালের বৈশ্বিক ধর্মীয় জনসংখ্যা projection অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় **৩১ কোটি ৭ লাখ** হতে পারে। একই projection-এ ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২৫ কোটি ৬৮ লাখ ধরা হয়েছিল।
অর্থাৎ ওই projection অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হতে পারে; ইন্দোনেশিয়া তখন তৃতীয় অবস্থানে থাকতে পারে, আর পাকিস্তান দ্বিতীয়।
এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন মসজিদের চাহিদা ও নির্মাণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে মানেই একই অনুপাতে মসজিদের সংখ্যা বাড়বে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। মসজিদের সংখ্যা নির্ভর করে জনবসতির ঘনত্ব, নগরায়ণ, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নতুন বসতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ এবং মসজিদ নির্মাণের সামাজিক প্রবণতার ওপর।
তাই ২০৫০ সালে ভারত ইন্দোনেশিয়াকে মসজিদের সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাবে—এটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
-
বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশেও মসজিদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। তবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালনাগাদ তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি মসজিদ রয়েছে।
এই সংখ্যাটি আপনার দেওয়া ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫-এর সঙ্গে মিলে যায়। তবে আন্তর্জাতিক তুলনায় একই সংজ্ঞা ব্যবহার করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনো দেশের পরিসংখ্যানে শুধু মসজিদ এবং অন্য দেশের পরিসংখ্যানে মুসাল্লা বা ছোট নামাজের স্থান যুক্ত থাকলে ranking বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
-
অন্যান্য দেশের চিত্র
মিশরে মসজিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে নথিবদ্ধ। দেশটির Central Agency for Public Mobilization and Statistics (CAPMAS)-এর তথ্য অনুযায়ী, মিশরে ১ লাখ ৫১ হাজার ১৯৪টি মসজিদ রয়েছে।
ইরানের ক্ষেত্রে নির্ভুল জাতীয় সংখ্যা পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন সূত্রে সক্রিয় মসজিদের সংখ্যা প্রায় **৫৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজারের মধ্যে** বলা হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার ৭৫ হাজার মসজিদের মধ্যে অনেকগুলো সক্রিয় নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তুরস্কের সরকারি Diyanet পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালে দেশটিতে ৯০ হাজার ৩৪৯টি মসজিদ ছিল। ফলে ৪১ হাজার ৮৩৩টি—আপনার দেওয়া সংখ্যাটি বর্তমান সরকারি তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
পাকিস্তান, সুদানসহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রেও উৎসভেদে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিশ্বের দেশগুলোর মসজিদসংখ্যার ranking তৈরি করতে হলে আগে নির্ধারণ করতে হবে—শুধু নিবন্ধিত মসজিদ গণনা করা হবে, নাকি মুসাল্লা ও অন্যান্য নামাজের স্থানও অন্তর্ভুক্ত হবে।
-
তাহলে ২০৫০ সালে কী হতে পারে?
বর্তমান তথ্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার— ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা আগামী কয়েক দশকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। Pew Research Center-এর projection অনুযায়ী, ২০৫০ সালে ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় প্রায় ৫ কোটি বেশি হতে পারে।
এর ফলে ভারতের মসজিদ অবকাঠামোর ওপরও ভবিষ্যতে চাপ ও সম্প্রসারণের প্রয়োজন তৈরি হতে পারে। কিন্তু বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ‘২০৫০ সালে ভারত নিশ্চিতভাবে ইন্দোনেশিয়াকে মসজিদের সংখ্যায় ছাড়িয়ে যাবে’—এমন দাবি করা তথ্যগতভাবে অতিরঞ্জিত হবে।
বরং বলা যায়:
জনসংখ্যাগত হিসাবে ভারত ২০৫০ সালের দিকে ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশে পরিণত হতে পারে। সেই জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সঙ্গে মসজিদের সংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে মসজিদের সংখ্যায় ইন্দোনেশিয়াকে ভারত ছাড়িয়ে যাবে কি না, তা নির্ভরযোগ্যভাবে পূর্বাভাস দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই।




























