
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার ১ নং ধানসাগর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান *ধানসাগর শ্রী শ্রী গোবিন্দ মন্দির সেবাশ্রমে* আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সুন্দরবন উপকূলীয় এই জনপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
সরেজমিনে মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মন্দির কমিটি ও স্থানীয় যুব সমাজের অক্লান্ত পরিশ্রমে মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা শিল্পী নিপুণ হাতে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও মহিষাসুরের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবারের প্রতিমায় থাকছে বিশেষ আকর্ষণ ও নতুনত্ব।
মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, এই গোবিন্দ মন্দির সেবাশ্রমটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর দুর্গাপূজা ছাড়াও এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হয়।
পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি:
মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে থাকছে বিস্তারিত কর্মসূচি।
মহাষষ্ঠী: বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার শুভ সূচনা।
মহাসপ্তমী: নবপত্রিকা স্নান, সপ্তমী বিহিত পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি।
মহাঅষ্টমী: মহাঅষ্টমী বিহিত পূজা, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা। এই দিনে ভক্তদের জন্য বিশেষ অঞ্জলির ব্যবস্থা থাকবে।
মহানবমী: নবমী বিহিত পূজা, হোম যজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণ।
বিজয়া দশমী: দশমী বিহিত পূজা, দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি।
এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি ভাস্কর মজুমদার World Hindu Times কে বলেন, “ধানসাগর গোবিন্দ মন্দির সেবাশ্রম শুধু একটি মন্দির নয়, এটি আমাদের এলাকার সকল মানুষের সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
সাধারণ সম্পাদক সত্যরঞ্জন মিস্ত্রী বলেন, “উপকূলীয় এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলেমিশে পূজা উদযাপন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন প্রসাদের ব্যবস্থা থাকবে।”
কোষাধ্যক্ষ তুহিন মিত্র বলেন, “অর্থের স্বচ্ছতা বজায় রেখে আমরা পূজার সকল আয়োজন সম্পন্ন করছি। প্রবাসী ও স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আমাদের পূজা প্রতি বছর আরও সুন্দর হচ্ছে।”
পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বসানো হবে বর্ণিল আলোকসজ্জা। নিরাপত্তার জন্য থাকবে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল, পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলাকার সকল ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দকে উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

অভিজিৎ দেউড়ী।। বাগেরহাট প্রতিনিধি 





















