
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসকন (International Society for Krishna Consciousness) কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা, অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক-ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি নতুন ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে—ইসকনের নাম ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে রেখে একটি বাণিজ্যিক সাইবার সিকিউরিটি কোর্সের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচারণামূলক পোস্টারে দেখা যায়, ‘সাইবার ফোর্স – We Fight For Bangladesh’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ইসকনের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা ঠেকানোর কথা উল্লেখ করে এক হাজার শিক্ষার্থীকে সাইবার সিকিউরিটি কোর্স করানোর ঘোষণা দিয়েছে। পোস্টারটিতে দাবি করা হয়েছে, ১৪ হাজার টাকার কোর্স মাত্র ৩৯৯ টাকায় দেওয়া হবে; একইসঙ্গে বলা হয়েছে, এই কোর্সের মাধ্যমে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টসহ দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রচারণাটিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—ইসকনের নাম ও সংশ্লিষ্টদের ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে রেখে একটি বাণিজ্যিক কোর্সের প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সম্প্রদায়কে ঘিরে মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী নিজেদের সেবা কিংবা পণ্য প্রচার করছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তবে পোস্টারটিতে উল্লিখিত কোর্স, এর আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবং ইসকনের সঙ্গে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা জরুরি।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ইসকনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো সময়ে ইসকনকে “মilitant” বা “ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট” হিসেবে চিত্রিত করে প্রচারণা ছড়ানো হয়েছে; আবার অন্যদিকে ইসকন নিজেই দাবি করেছে যে তাদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা, বানোয়াট ও ঘৃণামূলক প্রচারণা” চালানো হচ্ছে।
এই পরিবেশে ধর্মীয় অনুভূতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্রুত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো প্রচারণায় অর্থ প্রদান বা কোর্সে নিবন্ধনের আগে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, অনুমোদন, কোর্সের বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন মহল।

ডেস্ক রির্পোট । World Hindu Times 



























